এমপির ঘোষণায় বিপাকে ৬৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

এমপির ঘোষণায় বিপাকে ৬৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সুনামগঞ্জ-১ এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এর নির্বাচনী এলাকা (ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও মধ্যনগর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীর এক বছরের বেতন পরিশোধের ঘোষণা দিয়ে
কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিপাকে পড়েছে ৬৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

কোনো কোনো  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন উত্তোলন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে শিক্ষার্থীরা এমপির ঘোষণাকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন দেওয়া বন্ধ রেখেছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা। এমপির ঘোষণা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের  শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। শিক্ষার্থীদের বেতন উত্তোলন না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে আর্থিক সঙ্কটে।

অনুসন্ধানে খোঁজ নিয়ে যানা যায়, বিগত ইরি-বোরো মৌওসুমের শুরুতেই অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি  বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। ফসল রক্ষা বাধঁ ভেঙ্গে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের শতভাগ ফসলডুবি হয়েছিল।

স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ১৩মে তার নির্বাচনী এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের এক বছরের বেতন নিজেই পরিশোধের ঘোষণা দেন। তখন থেকেই সংশ্লিষ্ট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের (উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ছাড়া) এক বছরের বেতন প্রায় কোটি টাকা।

এব্যাপারে ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মালেন খান তিনি জানান, এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৩৩ জন। খণ্ডকালীন শিক্ষকসহ মোট ২৭ জন শিক্ষক রয়েছে।  শিক্ষার্থীরা বেতন পরিশোধ না করায় বিগত কয়েক মাস ধরে শিক্ষকদের বেতন ঠিকমত পরিশোধ করতে  পারছেন না। তবে প্রথম সাময়িক পরিক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফিসহ বেতন উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। তবে এসময় অনেক শিক্ষার্থীই বেতন পরিশোধ করেনি। আমাদের এমপি সাহেব কবে  নাগাদ জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বেতন পরিশোধ করবেন তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি উক্ত  বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি। শুধু আমাদের বিদ্যালয়েই নয় ধর্মপাশা, মধ্যনগর, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর  উপজেলার ৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন করুণ অবস্থা। তবে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ মান-সম্মানের ভয়ে এমন অবস্থা স্বীকার করতে নারাজ।

উপজেলার জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, বি.আর ডিবি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর কবির বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক বছরের বেতন ১৭ লাখ টাকার ওপরে। এমপি আমাদের প্রতিষ্ঠানের বেতন পরিশোধের ঘোষণা দিয়ে তা পরিশোধ না করায় বিদ্যালয়টি আর্থিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের ঠিকমত বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। কবে নাগাদ বেতন পাওয়া যাবে তাও অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।

এ ব্যাপারে এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধ করা হবে।

Source : Daily Nayadiganta

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *