জাবি মেডিক্যালে সর্বরোগের ওষুধ নাপা-হিস্টাসিন

জাবি মেডিক্যালে সর্বরোগের ওষুধ নাপা-হিস্টাসিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে যে কোনো রোগের চিকিৎসা নিতে গেলে শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে নাপা আর হিস্টাসিন। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে নিম্নমানের ওষুধ সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে সর্বরোগের ওষুধ হিসেবে নাপা ও হিস্টাসিন দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। যে কোনো রোগে অসুস্থ হলেও একমাত্র এই ওষুধই দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। একটু গুরুতর হলে সাভারের এনাম মেডিক্যালে পাঠিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ টাকা খরচ করে মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে লাভ কি, যদি শিক্ষার্থীরা সঠিক চিকিৎসার সাথে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পায়।

কে এম রিয়াদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এমনিতেই বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালে ওষুধ সরবরাহ কম, তাতে আবার নিম্নমানের কোম্পানির নিম্নমানের ওষুধ ক্রয় করে। যা খেয়ে আমাদের রোগ থেকে মুক্তি তো মিলছেই না, বরং উল্টো এইসব ওষুধ খেয়ে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।’বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপ-মেডিক্যাল অফিসার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যালের ওষুধ ক্রয়ের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন কোম্পানির নাম মিটিংয়ে উত্থাপনপূর্বক তা পাশ করিয়ে সেই ওষুধগুলো ক্রয় করতে বলা হয়। সে অনুযায়ী ওষুধ ক্রয় করা হয়। এ কমিটিতে বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক সমিতি’র সদস্যরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষক এবং দু’জন উপ-মেডিক্যাল অফিসারসহ অন্যান্যরা থাকেন।তিনি আরো বলেন, এ কমিটির সদস্যরা যখন নিম্নমানের ওষুধ কোম্পানির নাম উত্থাপন করে ও তা বাস্তবায়ন করিয়ে নেন, তখন আমাদের কথা তারা কোনো আমলে নেয় না। আমরা অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তার কিন্তু এমনও ঘটনা ঘটেছে যে আমাদের মেডিক্যালে হামদর্দের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। হামদর্দের ওষুধ আমাদের এখানে কোনো প্রয়োজন নেই তা জানালেও তারা বলেন, ‘আরে না প্রয়োজন আছে। লিস্টে নাম উঠাও।’ এই সব নিম্নমানের কোম্পানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নানা প্রকার সুযোগ সুবিধা দিয়ে, তাদের কোম্পানির নাম লিস্টে উঠিয়ে নেন বলে উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোজেজা জহুরা বলেন, আমাদের এ বছরে বাজেট ১৮ লাখ টাকা যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল, ফলে প্রয়োজনীয় সব ওষুধ ক্রয় করা সম্ভব হয় না। তারপরেও চেষ্টা করি কম হলেও সব আইটেমের ওষুধ রাখার জন্য।এ বিষয়ে জাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, আমরা কয়েকদিনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল কমিটিকে নিয়ে বসব এবং সেখানে মেডিক্যালের সার্বিক সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হবে। এছাড়া মেডিক্যাল সেন্টারের জন্য আলাদা করে ১০-১২ লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

Source : DainikAmaderShomoy

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *