পরীক্ষার হলে বিশেষ কারণে দেরি বিবেচনা করা হবে

আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। এবার এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন শিক্ষার্থী। যা গতবারের চেয়ে ৫৬ হাজার ৪৫ জন বেশি।  গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ দিকে পাবলিক পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকা ‘আবশ্যিক’ করা হলেও ‘বিশেষ কারণে’ কারও দেরি হলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ব্যতিক্রম কিছু হলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই সেটা কার্যকারণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন। কেউ একটা অ্যাক্সিডেন্টে পড়ে গেল সেক্ষেত্রে তো আপনাকে বিবেচনা করতে হবে, সে রকম ব্যতিক্রম থাকবে। সকল ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম থাকে।
প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পাবলিক পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে ঢোকার এই নিয়ম করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা থেকে কার্যকর হবে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকরা সকালে যাওয়ার পর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এটা বন্ধ করার জন্য পরীক্ষার্থীরা ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে ঢুকবে, তারপর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা হবে।
আধ ঘণ্টা আগে হলে পৌঁছালে পরীক্ষার্থীদের টেনশন কমে যাবে মন্তব্য করে সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, এটার অন্য একটা দিকও আছে- ঠিক সময়ে পৌঁছানোর জন্য প্ল্যান করে বাসা থেকে বের হতে হবে। কারণ আমাদের যানজট বা ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রতিদিনের। সুতরাং আমরা সেভাবে প্ল্যান করতে বাধ্য হই।
পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা (ফাইল ছবি) পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা (ফাইল ছবি) প্রশ্ন ফাঁস আটকাতে এই নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে সেই যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, আগে হলে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবে। অন্যদিকে যে ক্ষুদ্র অংশ অসাধু পন্থা অবলম্বন করে, তারা তখন এই সুযোগটা পাবে না, কমিউনিকেশন গ্যাপ হয়ে যাবে। যেহেতু শিক্ষার্থীদের সাথে অন্য কোনো মাধ্যম থাকবে না, তাই পরীক্ষার হলে ঢোকার পরে কমিউনিকেশন থাকছে না। কেউ যদি অসাধুপন্থায় কিছু করতেও চায়, সেই সুযোগটা আর পাচ্ছে না।
আইন না করে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের বিষয়টি ‘বাধ্যতামূলক’ করা যাবে না জানিয়ে সচিব বলেন, এ জন্য মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়ম মানাকে ‘আবশ্যিক’ বলা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, জেএসসি পরীক্ষায় ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭৮ জন ছাত্র ও ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৪২ ছাত্রী অংশ নেবে। ছাত্রের তুলনায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৪ জন ছাত্রী বেশি। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৪ লাখ ১২ হাজার ৭৭৫ জন। এ বছর অংশ নিচ্ছে ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন। এবার সারাদেশে মোট ২ হাজার ৮৩৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বাইরের ৯টি কেন্দ্রে এবার ৬৫৯ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এবারও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া অন্য বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা এবারও অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। এছাড়া তারা শ্রুতিলেখক সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। পরীক্ষা শেষ হবে ১৭ নভেম্বর। আর ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল দেওয়া হবে। নকলমুক্ত পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

Source : Daily Sangram

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *